দীর্ঘদিনের বিতর্কিত এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক বিল উত্থাপন করা হয়েছে।
রাতে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬ বিল উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। চার কার্যদিবসের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বিলটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত, সংঘবদ্ধ ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধ-দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে একটি আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন। জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশ ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, র্যাবের সব জনবল, ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, দায়, চুক্তি ও নথিপত্র এসআরবির কাছে হস্তান্তর করা হবে। নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত র্যাবের ২০০৫ সালের বিদ্যমান বিধিমালা কার্যকর থাকবে।
এসআরবি পুলিশ বাহিনীর অধীনে বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। নিয়োগ বা প্রেষণের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তা, শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং নির্ধারিত সশস্ত্র সদস্য বা কর্মচারীদের নিয়ে এটি গঠিত হবে। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এর মহাপরিচালক হবেন।
এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেফতার ও জব্দের ক্ষমতা দেওয়া হবে। ইউনিটটির নিজস্ব হাজত, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র থাকবে। জনসাধারণ ও সদস্যদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে।
র্যাব বিলুপ্তির প্রস্তাবকে সর্বান্তঃকরণে স্বাগত জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তবে নতুন বাহিনী গঠনের ক্ষেত্রে গভীর পর্যালোচনার দাবি জানিয়ে তিনি অতীত ট্রমার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “একবার চুন খেয়ে গাল ঘা হয়েছে, এখন সাদা দই দেখলেও ভয় লাগে। জাতি আজ ট্রমাটাইজড। র্যাবের দ্বারা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলা এর জ্বলন্ত প্রমাণ। এই জুলুমের কথা স্মরণ হলে এখনও অনেকে ঘুমাতে পারে না।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করলে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি নতুন বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের আগে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানান। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও একই আহ্বান জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের কারণে র্যাব জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছিল। নির্বাচনের আগে সব রাজনৈতিক দল, এমনকি বিএনপিও র্যাব বিলুপ্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
তিনি বলেন, র্যাব ফ্যাসিবাদের প্রতীক। এটি বিলুপ্ত করা উচিত। নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের আগে সংসদে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নাহিদ ইসলাম অন্তর্র্বতী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। তখন উপদেষ্টা পরিষদে তিনি এ প্রস্তাব দিলে ভালো হতো। কিন্তু ১৮ মাসে তার এ কথা মনে হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক ছিলেন কুখ্যাত বেনজীর। এ কারণে কি আমরা পুলিশ বিলুপ্ত করে দেব?












